| বঙ্গাব্দ

হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার সমঝোতাসহ গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদ খানের | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-06-2026 ইং
  • 8990 বার পঠিত
হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার সমঝোতাসহ গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদ খানের | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: হান্নান মাসউদ

এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার আর্থিক সমঝোতাসহ গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদ খানের

অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন হান্নান মাসউদ।

বুধবার (৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ khan এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

পল্টনের হোটেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকের অনেকগুলোই রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি সুনির্দিষ্ট হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।

রাশেদ খানের দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের একটি গোপন বৈঠকে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার এবং দেশত্যাগে সহায়তা করার বিনিময়ে ৪ কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের সমঝোতার আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ তার সহযোগী আব্দুল গাফফার জিসানকে ডেকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ওই আওয়ামী লীগ নেতা ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে চুক্তিটি যেন অন্তত ৩ কোটি টাকায় সম্পন্ন করা যায়—সেই চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অর্থের বিশেষ প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

প্রত্যক্ষ সাক্ষী আব্দুল গাফফার জিসান

পোস্টে রাশেদ খান আরও বলেন, হান্নান মাসউদের এই সমস্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ও আর্থিক লেনদেনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হলেন হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান। তিনি জানান, গত বছরের ২৭ জুলাইয়ের পর আন্দোলনের কঠিন সময়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন।

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী বেশ কিছুদিন জিসান মূলত হান্নান মাসউদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের হঠাত অর্থের প্রতি অতিরিক্ত মোহাচ্ছন্নতা, অনৈতিক আগ্রহ ও আচরণগত নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে জিসান নিজেই তার থেকে দূরে সরে যান।

হাতিয়ার রাজনীতি ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার প্রসঙ্গ

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার দাবি, হান্নান মাসউদ ব্যক্তিগতভাবে মনে করতেন মোহাম্মদ আলী নোয়াখালীর রাজনীতিতে তার প্রধান ও একমাত্র বাধা। এই রাজনৈতিক পথের কাঁটা সরাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ প্রভাব ব্যবহার করে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতারে হান্নান মাসউদ নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, বিভিন্ন ব্যক্তিগত ঘরোয়া আলোচনায় হান্নান মাসউদ নাকি প্রকাশ্যেই বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য কোনো সাধারণ নেতাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই তার ক্ষমতার লড়াই। একই সঙ্গে নোয়াখালীর আঞ্চলিক রাজনীতিতে একক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতোই বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আড্ডায় ও রাজনৈতিক আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে পোস্টে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency